অক্টোবরের প্রথম ৮ দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ৪৪ শতাংশ, কলকাতায় ৯২ শতাংশ

কলকাতা: পুরোপুরি উলটপুরাণ! বর্ষার চার মাসে যে কলকাতা এবং সামগ্রিক ভাবে গোটা দক্ষিণবঙ্গে স্বাভাবিকের থেকে প্রচুর বৃষ্টি পেয়ে ভেসে গেল, অক্টোবর পড়তেই সেখানে বৃষ্টি রীতিমত হাওয়া! এর ফলে অক্টোবরের প্রথম ৮ দিনেই অস্বাভাবিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। অথচ এখনও বর্ষা সরকারি ভাবে বিদায় নেয়নি এই সব অঞ্চল থেকে।

যদিও এই বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে আদৌ কোনো অভিযোগ নেই সাধারণ মানুষ। বলা ভালো এই ঘাটতির জন্যই রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু অংশ ছাড়া বন্যামুক্ত হয়েছে বেশিরভাগ অঞ্চলই।

অক্টোবরের ১ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে যা বৃষ্টি হওয়ার কথা তার থেকে ৪৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ সরকারি ভাবে বর্ষার চার মাসে এ বার স্বাভাবিকের ২৬ শতাংশ বৃষ্টি পেয়েছে দক্ষিণবঙ্গ, যা ২০০৭-এর পর সব থেকে বেশি।

এ দিকে, কলকাতার পরিস্থিতি আরওই অদ্ভুত। শহরে এই সময়ে যত বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল, হয়েছে তার থেকে ৯২ শতাংশ কম। বর্ষার চার মাসে কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের থেকে ৩৫ শতাংশ বেশি।

তবে গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার বিক্ষিপ্ত কিছু অংশে অল্প সময়ের জন্য তীব্র ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গড়িয়া-পাটুলি অঞ্চলের রেকর্ড বলছে বুধবার দুপুর, বৃহস্পতিবার দুপুর এবং শুক্রবার দুপুর মিলিয়ে এই অঞ্চলে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আলিপুরে কার্যত কোনো বৃষ্টিই না হওয়ায় পাটুলি-গড়িয়া অঞ্চলের এই তীব্র বৃষ্টিটার কোনো রেকর্ডই হয়নি।

বর্ষা বিদায়ের পালা, স্থানীয় ঝড়বৃষ্টি চলবে

উল্লেখ্য, বর্ষা এখন দক্ষিণবঙ্গেও বিদায় নেওয়ার মুডে এসে গিয়েছে। এখন দিনের বেশিরভাগ সময়ও উত্তুরে হাওয়া বইছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বায়ুমণ্ডলে। অন্যদিকে, দক্ষিণা হাওয়া ধীরে ধীরে এই উত্তুরে হাওয়াকে জায়গা করে দিলেও এখনও দক্ষিণবঙ্গে এই দুই ধরনের হাওয়ার সংঘর্ষ হচ্ছে।

এই দুই হাওয়ার সংঘর্ষ এবং দক্ষিণবঙ্গের ওপরে অবশিষ্ট কিছু জলীয় বাষ্পের জোগানে দক্ষিণবঙ্গের অল্প কিছু কিছু জায়গায় অত্যন্ত স্থানীয় ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই মেঘ ভেঙেই স্থানীয় ভাবে তীব্র ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে কোথাও কোথাও।

সপ্তমী পর্যন্ত এই রকম আবহাওয়াই দক্ষিণবঙ্গে থাকবে বলে আশা করা যায়। তবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাটা আরও কমে যাবে। সামনের সপ্তাহের গোড়াতেই দক্ষিণবঙ্গ থেকে বর্ষার বিদায় ঘোষণা করে দিতে পারে আবহাওয়া দফতর।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ

আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে পুজোয় কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আবহাওয়া খুব একটা খারাপ থাকবে না। যদিও অষ্টমী থেকে দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে হাওয়ার প্রভাব বাড়ার ফলে নতুন করে ঢুকতে পারে জলীয় বাষ্প। ফলে অষ্টমী, নবমী এবং দশমীতে বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে কোথাও কোথাও। তবে তা কোনো দুর্যোগ ডেকে আনবে না।

যদিও, পুজোর ঠিক পরেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানতে পারে। বিভিন্ন মডেলের ইঙ্গিত অনুযায়ী ওই নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় মূলত ওড়িশা-অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকেই আঘাত হানতে পারে। তবে তার প্রভাবে লক্ষ্মীপুজোর সময়টায় দক্ষিণবঙ্গে ঝোড়ো হওয়ার সঙ্গে বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।



from KhaborOnline https://ift.tt/2WTv242

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Tech Posts