খড়িয়পে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারে দুর্গা রূপে মা সারদার আরাধনা

শ্রয়ণ সেন

গত বারের থেকে এ বারের ছবিটা খুব একটা যে পালটেছে তা নয়। পুজোর পাঁচ দিনই যেখানে উপচে পড়ে ভিড়, সেখানে গত বার করোনার আবহে নানা বিধিনিষেধের কারণে ভিড় একেবারেই ছিল না বলা চলে। এ বারেও পূজাপ্রাঙ্গণে কোনো ভিড় চোখে পড়ল না, যদিও সামগ্রিক ভাবে দেশের করোনা চিত্রটা অনেকটাই ইতিবাচক। তবে প্রাণভরা একাত্মতার ছবিটা এ রকমই রয়েছে খড়িয়পের শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারের সারদা-দুর্গাপুজোয়।     

করোনার প্রকোপ অনেকটাই কম, তবু সে আছে। তাই এ বারেও রাজ্যের বেশির ভাগ মঠ এবং আশ্রম দর্শকহীন দুর্গাপুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু গত বারের মতো এ বারেও সে পথে হাঁটেনি শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার। আশ্রমের প্রধান, তথা প্রেসিডেন্ট মহারাজ, স্বামী সম্বুদ্ধানন্দ জানিয়ে দিয়েছেন, মঠ খোলা হবে। ভক্তরা আসবেন, তবে কিছু সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আমতার কাছে এই সারদা-দুর্গাপুজোয় এই অঞ্চলের বাইরের মানুষজনকে ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে আসতে অনুরোধ করা হয়েছে। আর স্থানীয় বাসিন্দাদের বলা হয়েছে অষ্টমী-নবমীতে আসতে। এটা অবশ্য কোনো লিখিত নির্দেশ নয়, মৌখিক। তবে দেখে বোঝা যাচ্ছে সবাই এই মৌখিক নির্দেশকে মান্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।   

ভক্ত সমাগম।

গত বারে অবশ্য মঠে ঢোকার পরেই তাপমাত্রা মাপার বন্দুকধরা প্রহরী এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁর কাছে পরীক্ষায় পাশ করে তবেই মঠের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলছিল। এ বার অবশ্য প্রবেশ অবাধ। তবে মাস্ক পরা বা দূরত্ববিধি মানার কথা সবাইকে বলা হচ্ছে।

গত বার নির্মীয়মাণ মন্দিরের গর্ভগৃহে শ্রীশ্রীমা একাই বিরাজ করছিলেন। এ বছর তাঁর পাশে মা দুর্গা ফিরে এসেছেন। এ ভাবেই শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারে আরাধনা হচ্ছে সারদা-দুর্গার।   

নির্মীয়মাণ মন্দির।

স্বামী বিবেকানন্দ মা সারদাকে জীবন্ত দুর্গা বলতেন। জগৎজননীকে দুর্গা রূপে পুজোও করতেন স্বামীজি। তাঁকেই অনুসরণ করে এই মঠ। দুর্গা রূপে এখানেই পূজিত হন মা সারদা। মা সারদার পাশে মা দুর্গার মৃন্ময়ী মূর্তিও শোভা পায়। গত বারই ছিল ব্যতিক্রম। পরিস্থিতি অন্য রকম থাকায় দুর্গামূর্তি না আনারই সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট মহারাজ। কিন্তু এ বার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দুই মা পাশাপাশি রয়েছেন।

১৯৯৫ সালে স্বামী সম্বুদ্ধানন্দের হাত ধরে পথ চলা শুরু এই মঠের। হাওড়ার আমতার কাছে খড়িয়প গ্রামে এই মঠের অবস্থান। এর চার বছর পর, অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে এখানে দুর্গাপুজো শুরু। ২০০০ সালে কলকাতার চিড়িয়া মোড়ের কাছে রেডিও গলিতে এই মঠের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরিত হয়।

এই দুর্গাপুজোর আরও এক আকর্ষণ আশ্রমের ভোগ। পুজোর চার দিনই অসংখ্য মানুষ এখানে ভোগ খেতে আসেন। অষ্টমীর দিন তো আশ্রমসংলগ্ন গ্রামগুলি ভেঙে পড়ে এই আশ্রমে। মহারাজদের মতে অষ্টমীর দুপুরে প্রায় তিরিশ হাজার মানুষের সমাগম হয়। অষ্টমী এবং নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজোও এখানকার আরও এক আকর্ষণ।

ভোগ খাওয়ার জায়গা।

কিন্তু করোনা কেড়েছে অনেক কিছুই। তাই গত বার থেকে আর বসিয়ে ভোগ খাওয়ানো হচ্ছে না। যাঁরা আসছেন তাঁদের হাতে হাতেই ভোগ তুলে দেওয়া হচ্ছে। ম্যারাপ বাঁধা হয়েছে। তার নীচেই চেয়ার পাতা রয়েছে। সেখানেই ভোগ হাতে নিয়ে বসে পড়ুন।

শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারের পুজোয় এ বারেও হয়তো ভক্তের ঢল নেই, কিন্তু আছে একাত্মতা। আছে মনের পরম শান্তি। করোনা চলে গেলে পুজোয় এই মঠ যে আবার গমগম করবে, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি: লেখক

আরও পড়তে পারেন

আজ মহাষ্টমী, বেলুড় মঠে কুমারীপূজা সম্পন্ন, অঞ্জলির পর শুরু হবে ঠাকুর দেখা

৩৩ বছর ধরে চলছে বাহরাইন বঙ্গীয় সমাজের পুজো

পটলডাঙার বসুমল্লিক বাড়ির পুজোর এ বার ১৯১ বছর

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিল্পকলায় সেজে উঠেছে জয়নগরের ১২৯টি পুজো মণ্ডপ

বড়িশা ক্লাবে এ বার ‘ভাগের মা’

হীরকজয়ন্তী বর্ষে লাইব্রেরি বানিয়ে বাবুবাগান শ্রদ্ধা জানাচ্ছে বাংলার মনীষীদের



from KhaborOnline https://ift.tt/3Dzee24

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Tech Posts