চেন্নাই: ২০১৫ সালের পর সব থেকে ভয়াবহ বৃষ্টির কবলে পড়েছে চেন্নাই ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। সেই বৃষ্টি থেকে এখনই রেহাই মেলার কোনো সম্ভাবনা নেই। ইতিমধ্যেই প্রবল বর্ষণে জলে ভেসে গিয়ে ও বাড়ি ভেঙে তামিলনাড়ুতে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের। ভেঙে পড়েছে ৫৩৮টি মাটির বাড়ি ও চারটি পাকা বাড়ি।
বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় সে ভাবে বৃষ্টি না হলেও বুধবার সকাল থেকে ফের ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয়েছে চেন্নাইয়ে। আগামী ২-৩ দিনের পূর্বাভাসে চেন্নাইবাসীদের কপালে যথেষ্ট চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের শক্তি বাড়ছে, ফলে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা এখনই কমছে না। তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বরে প্রবল বর্ষণ হতে পারে। মঙ্গলবারই তাই তামিলনাড়ুর চেন্নাই, চেঙ্গলপাট্টু, ভিলপ্পুরম, কাঞ্চিপুরম-সহ ছয় জেলায় রেড অ্যালার্ট অর্থাৎ চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অরেঞ্জ অ্যালার্ট অর্থাৎ মাঝারি সতর্কতা জারি করা হয়েছে নীলগিরি, সালেম, কল্লাকুরিচি-সহ ন’টি জেলায়।
ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের ফলে জলমগ্ন চেন্নাই শহর। যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়েছে ব্যাপক ভাবে। দেখা দিয়েছে পানীয় জলের অভাবও। এই বিষয়ে মঙ্গলবার চেন্নাই পৌর প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে মাদ্রাজ হাই কোর্ট। শুধু তাই নয়, আগামী শনিবারের মধ্যে শহরের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তা হলে বিষয়টি আদালত নিজের হাতে তুলে নেবে বলেও জানানো হয়েছে আদালতের তরফে।
চেন্নাই শহরের পরিস্থিতি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির সময়ে সংশ্লিষ্ট বিচারপতির বেঞ্চ প্রশ্ন করে, ২০১৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পরেও কেন শহরের প্রশাসন বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেনি
বৃহত্তর চেন্নাইয়ের কমিশনার গগনদীপ সিংহ বেদী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শহর-সংশ্লিষ্ট চেম্বারবাক্কাম হ্রদ থেকে নিয়ন্ত্রিত ভাবে জল ছাড়া হচ্ছে। ২০১৫ সালে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জল ছাড়ার জন্যই শহরের বন্যা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল।
পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে ৫০০টিরও বেশি পাম্প, বৈদ্যুতিক করাত ও জেনারেটর সেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জলমগ্ন এলাকা থেকে লোক জনকে উদ্ধার করার জন্য অনেক নৌকারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত তামিলনাড়ুর পরিস্থিতি বেশ জটিল।
আরও পড়তে পারেন
নতুন সংক্রমণ সামান্য বেড়ে সাড়ে ১১ হাজারে, সক্রিয় রোগী আরও কমল
from KhaborOnline https://ift.tt/3c0puZD